রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে বরিশালে সীমিত পরিসরে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলায় এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বই উৎসব’ আয়োজন করা হয়নি। তবে উৎসব না থাকলেও বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। শান্ত পরিবেশে, সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে না থাকলেও উৎসবের সাজসজ্জা, নতুন বইয়ের উচ্ছ্বাসে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
শিক্ষকরা জানান, রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকতা কম রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বছরের প্রথম দিনেই বই বিতরণ করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৯৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলতি শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৬টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৬টি বই ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এই তালিকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাড়াও দাখিল, ভোকেশনাল, ইবতেদায়ী ও ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা নিটুল মন্ডল বলেন, কিছু বই এখনো সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তবে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ঘাটতি থাকা সব বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রাথমিক স্তরেও প্রায় শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বরিশাল জেলার ১ হাজার ৭২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২০৮টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০টি বই পৌঁছেছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এজিএম সরোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ৯৯ শতাংশ বই ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, উৎসব না হলেও সময়মতো বই পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে চাঙা রাখবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীরাও নতুন বই হাতে পেয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুটা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে।