আজ শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নারী কর্মীদের নাজেহাল করা হচ্ছে: ইসিতে জামায়াতের অভিযোগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতিটা আরও খারাপ হতে পারে। তিনি বলেন, আগামীতে আমরা নারী প্রার্থী পাব, ইনশাআল্লাহ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন জায়গায় হামলাগুলো হচ্ছে। গায়ে পড়ে এই সমস্ত হামলাগুলো করা হচ্ছে। আমরা মনে করি যে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন যদি ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি সুন্দর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব। গত চার দিনে যতটুকু হয়েছে, আমরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি-যদি এটা নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতিটা আরও খারাপ হতে পারে। তবে ওনারা (কমিশন) আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা এখনই এই সমস্ত বিষয়গুলো যোগাযোগ করবেন, দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।
তিনি বলেন, আমরা গত কয়েকদিন ধরে দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে নারী কর্মীরা যখন কাজ করতে বের হচ্ছেন, তখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের নাজেহাল করা হচ্ছে, অপদস্ত করা হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় খুবই লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব থাকলে নেকাব খোলার জন্য বলা হচ্ছে। অনেকের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-১৫ আসনসহ ঢাকার বিভিন্ন আসনে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনাগুলো পরপর ঘটছে। আমরা ওনাদের অনুরোধ করেছি-এই সমস্ত বিষয়ে আমাদের বড় উদ্বেগ কাজ করছে। যেখানে অর্ধেক ভোটার নারী, সেখানে নারীরা স্বাভাবিকভাবে নারীদের পক্ষ থেকে কথা বললে কমফোর্ট ফিল করে। এটা ভালো দিক যে নারীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন এবং ভোটের আয়োজনে ভূমিকা রাখছেন।
নির্বাচনে তাদের একটি চমৎকার ভূমিকা সবাই প্রত্যাশা করে। সব দলেরই নারীরা কাজ করছে। আমরা তাদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ পরিবেশ দিতে চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলো, বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে আমাদের নারীকর্মীদের ওপর মারাত্মক ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, যা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খুব একটা ভূমিকা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। একটি বড় দলের পক্ষ থেকে তাদের নেতাকর্মীরা এই কাজগুলো করছে। আমরা যে বিষয়টি আলোচনা করেছি তা হলো-এমপিভুক্ত শিক্ষকরা যখন নির্বাচনী কাজে বের হচ্ছেন, তখন সেখানকার স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যন্ত, তাদের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং জরিমানা করেছেন-যে আপনি তো নির্বাচনী কাজ করতে পারেন না।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, আমরা সবগুলো সেন্টারেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন চাই, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম কেউ করতে না পারে। কিছু কিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে যারা আছেন, জেলা পর্যায়ে অথবা রিটার্নিং কিংবা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির আচরণ আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে-মনে হচ্ছে তারা কোনো একটি দলের পক্ষে নির্লজ্জভাবে ভূমিকা পালন করছেন। আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি বলেছি, প্রয়োজনে একসময় জাতিকেও জানাব।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয় আমরা পরিষ্কার করেছি-প্রবাসীরা জানেন যে ভোট দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ তারিখ। কিন্তু উনারা বলেছেন, চাইলে আরও দুই-তিন দিন পর্যন্ত দিতে পারবেন। মূল কথা হচ্ছে ১২ তারিখের মধ্যে ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছাতে হবে। সুতরাং যদি ৩০ বা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোট দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়, তাহলে সেটি সময়ের মধ্যে পৌঁছাবে। কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে ৩১ তারিখ পর্যন্ত দিলেও আশা করা যায় ১২ তারিখের মধ্যে পৌঁছে যাবে। জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, প্রবাসীদের বড় একটি উদ্বেগ হচ্ছে-তারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হচ্ছে। এখন আশা করি প্রবাসীরা কিছুটা সময় পাবেন, আশ্বস্ত হবেন এবং সময়মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

নারী প্রার্থী কেন দেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এবার দেইনি, আগামীতে দেব। আমাদের জোটের অন্যরা দিয়েছেন। আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে পরামর্শ নিই এবং সেই পরামর্শের আলোকে প্রার্থী ঠিক করি। এটি আমাদের দলের একটি ঐতিহ্য। পুরুষদের ক্ষেত্রে পরামর্শের আলোকে যে সিদ্ধান্ত আসে, তা মানতে হয়। নারীরা পরিবার ও বাস্তবতাকে সামনে রেখে রাজনীতিতে আসতে চাইলেও অনেক সময় নির্বাচনে আসতে চান না। বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা দেখেছি-সংরক্ষিত নারী আসন একসময় ১৫টি ছিল, পরে ২৫, ৩৫ হয়ে এখন ৫০-এ এসেছে। এভাবে ধীরে ধীরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে-আলহামদুলিল্লাহ।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নারীদের ব্যাপারে জোর করার সুযোগ নেই। কেউ চাইলে তার স্বাধীনতা আছে-তিনি নির্বাচন করবেন কি করবেন না। আমাদের মোট ম্যানপাওয়ারের ৪০ শতাংশের বেশি নারী, যা অন্য দলে এতটা আছে বলে আমার মনে হয় না। আমরা আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছি—ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেখানে ৯ জন পুরুষ সদস্য থাকেন, সেখানে ৬ জন নারী সদস্য থাকা উচিত। যেহেতু দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের সেবার জন্য সমান প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে পরামর্শ এলেও অনেক নারী অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এ কারণে আমরা চাপ দিয়ে এবার নারী প্রার্থী দেইনি। সামনে প্রস্তুতি নিচ্ছি-আপনারা নারী প্রার্থী পাবেন। ভোটারদের কাছ থেকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অসত্য দাবি। কোনো জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেনি যে নারীরা বাসায় গিয়ে এনআইডি বা বিকাশ নম্বর চেয়েছেন। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই—আমাদের নারীদের অসম্মান ও অপমান করা হচ্ছে। পরিশীলিতভাবে হিজাব পরা নারীদের নেকাব খুলে দেওয়া হচ্ছে। একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের নারী কর্মীদের হেনস্তা করছে। সংশ্লিষ্ট আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ সময় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।

Share and Enjoy !

Shares