মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মোঃ রাহুল আহমেদ খানকে (১৭) কুপিয়ে হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। রাহুল আহমেদ উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মেদুলিয়া গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলাম খানের ছোট ছেলে।
মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১০ টার দিকে হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিবিআই ও সিংগাইর থানার ওসিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় জানাজা শেষে মেদুলিয়া-গাজিন্দা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ রাহুলের বাবা-মা ও তার পরিবার।
এর আগে সোমবার (১৯মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খাসেরচর কোল (খাল) পার হানিফের ডাঙ্গার পাশে এ নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত রাহুলের সহপাঠী রাসেল জানান,গত ১০-১২দিন পূর্বে ঘুরতে গিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে পার্শ্ববর্তী কামুড়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের সাথে তুচ্ছ ঘটনায় তাদের বাক-বিতন্ডা হয়। এরপর সোমবার রাহুলসহ আমরা গ্রামের পাশেই ৩-৪ জন বন্ধু খালপাড় এলাকায় রাস্তায় বসে গল্প করছিলাম। এ সময় পার্শ্ববর্তী কামুড়া গ্রামের অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পূর্বের বাক- বিতান্ডার জের ধরে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সবাই দৌড়ে পালাতে পারলেও রাহুলকে তারা কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। রাসেল আরো বলেন, হত্যাকারী অনেককেই আমি চিনতে পারলেও নাম জানি না। তরে তরিকুল ও রাজিব নামে দুই ঘাতক আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করলে আমি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই।
ঘটনার সময় উপস্থিত আহত আসিফ নামের আরেকজন জানান, হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি ও চাকু হাতে তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা আসিফকেও ধরে বাশের লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করে এবং রাহুলকে ঘটনাস্থলে ফিল্মি স্টাইলে উপর্যুপুরী কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সকলেই পার্শ্ববর্তী নয়াপাড়া ও কামুড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এদিকে, খুনের শিকার রাহুল খান তিন ভাই -বোনের মধ্যে সবার ছোট। এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।
নিহত রাহুলের বাবা মো :নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি দোকান থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ছেলে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে । এসময় ছেলের সাড়া শরীরে ধাড়ালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন দেখতে পাই।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে.ও.এম তৌফিক আজম বলেন, হত্যার খবর পেয়ে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।