আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিংগাইরে পরিকল্পিতভাবে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মোঃ রাহুল আহমেদ খানকে (১৭) কুপিয়ে হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। রাহুল আহমেদ উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মেদুলিয়া গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলাম খানের ছোট ছেলে।

মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১০ টার দিকে হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিবিআই ও সিংগাইর থানার ওসিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় জানাজা শেষে মেদুলিয়া-গাজিন্দা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ রাহুলের বাবা-মা ও তার পরিবার।

এর আগে সোমবার (১৯মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খাসেরচর কোল (খাল) পার হানিফের ডাঙ্গার পাশে এ নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত রাহুলের সহপাঠী রাসেল জানান,গত ১০-১২দিন পূর্বে ঘুরতে গিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে পার্শ্ববর্তী কামুড়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের সাথে তুচ্ছ ঘটনায় তাদের বাক-বিতন্ডা হয়। এরপর সোমবার রাহুলসহ আমরা গ্রামের পাশেই ৩-৪ জন বন্ধু খালপাড় এলাকায় রাস্তায় বসে গল্প করছিলাম। এ সময় পার্শ্ববর্তী কামুড়া গ্রামের অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পূর্বের বাক- বিতান্ডার জের ধরে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সবাই দৌড়ে পালাতে পারলেও রাহুলকে তারা কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। রাসেল আরো বলেন, হত্যাকারী অনেককেই আমি চিনতে পারলেও নাম জানি না। তরে তরিকুল ও রাজিব নামে দুই ঘাতক আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করলে আমি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই।

ঘটনার সময় উপস্থিত আহত আসিফ নামের আরেকজন জানান, হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি ও চাকু হাতে তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা আসিফকেও ধরে বাশের লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করে এবং রাহুলকে ঘটনাস্থলে ফিল্মি স্টাইলে উপর্যুপুরী কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সকলেই পার্শ্ববর্তী নয়াপাড়া ও কামুড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এদিকে, খুনের শিকার রাহুল খান তিন ভাই -বোনের মধ্যে সবার ছোট। এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।

নিহত রাহুলের বাবা মো :নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি দোকান থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ছেলে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে । এসময় ছেলের সাড়া শরীরে ধাড়ালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন দেখতে পাই।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে.ও.এম তৌফিক আজম বলেন, হত্যার খবর পেয়ে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Share and Enjoy !

Shares