ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে কথিত হামলার ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা, বিতর্ক ও ব্যাপক চাঞ্চল্য।
একদিকে বাদীপক্ষ পরিকল্পিত হামলা, অস্ত্রের ব্যবহার ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে; অন্যদিকে আসামিপক্ষ পুরো ঘটনাকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের অতিরঞ্জিত রূপ বলে দাবি করছে। মামলার সূত্রে জানা যায়, রুদ্র কর্মকার রাকেশ বাদী হয়ে প্রকৃতি প্রাজ্ঞকে প্রধান আসামি করে আরও একজনসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তবে আসামিপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে প্রেম সম্পর্ক জনিত জটিলতা। তারা অভিযোগ করেন, যশোরে এক তরুণের সঙ্গে ওই মেয়ের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক ভাঙার উদ্দেশ্যে রাকেশ অপপ্রচার চালিয়ে প্রকৃতি প্রাজ্ঞকে জড়িয়ে একটি কাল্পনিক গল্প দাঁড় করান। তাদের ভাষ্য মতে, প্রকৃতি প্রাজ্ঞের সঙ্গে ওই মেয়ের কোনো ধরনের সম্পর্কই নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুদ্র কর্মকার রাকেশ ও প্রকৃতি প্রাজ্ঞ আগে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সম্প্রতি অপপ্রচারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরে উভয় পরিবারের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। প্রকৃতি প্রাজ্ঞের বাবা, আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর বিশ্বাস বলেন,আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। সে একজন মেধাবী ছাত্র। তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য নাটকীয়ভাবে একটি সাজানো ঘটনায় তাকে জড়ানো হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
তিনি আরও বলেন,ঘটনার দিন সামান্য কথাকাটাকাটি হয়েছিল, যা পরে হাতাহাতিতে গড়াতে পারে। কিন্তু এটিকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রঞ্জিত মন্ডল জানান,আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, রাকেশ ও প্রকৃতি প্রাজ্ঞের মধ্যে হাতাহাতি হচ্ছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে তাদের থামাই এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। পরে শুনি, একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, যা আমার কাছে ভিত্তিহীন মনে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ বিশ্বাস বলেন,মূলত এটি ব্যক্তিগত বিরোধ। পরে সেটিকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে, বাদী রুদ্র কর্মকার রাকেশ বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন,ঘটনাটি একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে প্রেমঘটিত বিরোধ থেকে মারামারিতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় একটি মারামারির মামলা নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। সচেতন মহলের মতে, এমন সংবেদনশীল ঘটনায় আবেগ নয়, প্রয়োজন সত্যের অনুসন্ধান। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই পারে বিভ্রান্তি দূর করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।