টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বারি পানি কচুর আবাদ। সামান্য পরিচর্যায় বেড়ে উঠে এসব কচু। খরচের চেয়ে লাভ কয়েক গুণ বেশি। অসংখ্য ভিটামিন রয়েছে এই কচুতে। ধানের বিকল্প হিসেবে অনেক কৃষক আবাদ করছেন পানি কচু।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে ২৩০ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হবে ৬ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন। বিশেষ করে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বারি-১, ৮ ও ৯ জাতের কচুর আবাদ বেশি হচ্ছে। জেলার ভূঞাপুর, ঘাটাইল, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল সদর ও দেলদুয়ারে কচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। পোঁকা মাকড় দমনে প্রাকৃতিক বালাই নাশক ব্যবহার করা হয়। বছরে একবার সামান্য পরিমাণে রাসায়নিক সার দিলেই হয়ে যায়। এক বিঘা জমিতে কৃষকের সব মিলিয়ে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। লতা ও কচু মিলে বিক্রি করতে পারে প্রায় দেড় লাখ টাকা। লাভজন হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এই কচুর আবাদ।
কৃষকরা বলেন, কচু আবাদে আমাদের প্রশিক্ষণ, তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ। ধানের বিকল্প হিসেবেও আমরা এর চাষ করতে পারছি। এতে আমাদের অনেক কম খরচে বেশি লাভ হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টি করা হলে কচুর আবাদ বৃদ্ধি ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বলেন- কচুর গোড়া থেকে শুরু করে কান্ড, পাতা, ফুল, লতি সব কিছুই খাওয়ার উপযোগি। কচুর মূল উপাদান হলো আয়রণ। যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রেখে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সহায়তা করে। নিয়মিত কচু খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়। প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন থাকে কচুতে। যা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি।