আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অংশীজনের স্বীকৃতি ছাড়া জুলাই ঘোষণাপত্র মেনে নেবে না গণঅধিকার পরিষদ

অংশীজনদের স্বীকৃতি ও আলোচনার বাইরে জুলাই ঘোষণাপত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। রবিবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আল রাজি কমপ্লেক্সে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা প্রথা বিলুপ্ত হয়। কিন্তু চলতি বছরের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আবারও ৩০ শতাংশ কোটা ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

তিনি বলেন, শুরুতে কোটা সংস্কার আন্দোলন থাকলেও শাসকগোষ্ঠীর গুলি ও দমনপীড়নের কারণে তা দ্রুত রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ নেয়। এ আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। তবে এই গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করেই তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন ও লড়াই। যারা এই অভ্যুত্থানকে শুধুমাত্র ৩৬ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়, তারা প্রকৃত ইতিহাস অস্বীকার করছে।
রাশেদ খান আরো বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে ৩৬ দিনের বিপ্লবের পাশাপাশি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনসহ বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক লড়াইয়ের কথা সঠিকভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। অথচ আমরা দেখছি, অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ইতোমধ্যে আলোচনা ছাড়াই জুলাই ঘোষণাপত্রের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেছে। বিপ্লবের প্রকৃত অংশীজনদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা গণঅধিকার পরিষদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়, এটি সবার। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে ইতিহাসকে বিকৃত করে ঘোষণাপত্র লেখা হলে, তা হবে ১৯৭১ সালের মতোই ২০২৪ সালের ইতিহাসকেও বিকৃত ও একপক্ষীয় করার প্রচেষ্টা। যা জুলাই চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

Share and Enjoy !

Shares