আজ বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে সাত কলেজে নতুন অস্থিরতা

ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজ ঘিরে আবারও জটিলতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্প্রতি যে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে, তার মাধ্যমে সাত কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন কাঠামো নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এমনকি শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরেও মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করছে।
সাত কলেজের শিক্ষকরা বলছেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে নন। তবে প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কলেজগুলোর স্বতন্ত্রতা ও ঐতিহ্য বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার বিস্তার ও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক। গতকাল পৃথক মানববন্ধনে তাঁরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় করা হোক, তবে সেটি অবশ্যই আলাদা জমিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অন্যদিকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন। তাঁদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘসূত্রিতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র সমাধান।
কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে কলেজ পর্যায়ে এই স্তর সংকটে পড়বে। গতকাল ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে দাবি তুলেছেন—বিশ্ববিদ্যালয় হোক, তবে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ঢাকার এই সাত সরকারি কলেজ হলো
ঢাকা কলেজ

ইডেন মহিলা কলেজ

বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

কবি নজরুল কলেজ

বাঙলা কলেজ

তিতুমীর কলেজ

এই সাত কলেজে বর্তমানে দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। আর শিক্ষক রয়েছেন হাজারের বেশি।

শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অবস্থান
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশের পর সাত কর্মদিবসের মধ্যে মতামত নেওয়া হবে। এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আপাতত বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী কয়েক বছর কলেজগুলো চলবে।

কাঠামোর বিতর্কিত দিক
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও ডিসিপ্লিনে ভাগ করা হবে। যেমন—ঢাকা কলেজে ফলিত গণিত ও ডেটা সায়েন্স, ইডেন কলেজে পদার্থবিদ্যা ও উদ্ভিদবিদ্যা, তিতুমীর কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা, আর কবি নজরুল কলেজে আইন পড়ানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে ‘হাইব্রিড’ ধাঁচের—৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ অনলাইনে, বাকিটা সশরীরে।

কিন্তু শিক্ষকেরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে কলেজের বিদ্যমান চরিত্র ভেঙে গেলে একদিকে উচ্চশিক্ষার মান কমবে, অন্যদিকে নতুন করে জটিলতা তৈরি হবে, যেমনটা হয়েছিল জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার সময়।

২০১৭ সালে প্রস্তুতি ছাড়াই সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। তখন থেকেই অস্থিরতা শুরু হয়। এ বছর জানুয়ারিতে আবার সেই অধিভুক্তি বাতিলের পর নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার আগেই কার্যক্রমে শূন্যতা তৈরি হয়। এখন প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রত্যাশা জাগালেও অন্য অংশকে উদ্বেগে ফেলেছে। প্রশ্ন এখন—এটি কি সত্যিই উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে, নাকি আরও এক দফা শিক্ষাব্যবস্থার অস্থিরতার সূচনা করবে?

Share and Enjoy !

Shares