আজ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মিরসরাইয়ে পরিবারের শিশু সদস্যদের জিম্মি ও নারীদের ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে ডাকাতি

মিরসরাইয়ে পরিবারের শিশু সদস্যদের জিম্মি ও নারীদের ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে লুটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত দেড়টায় ও ৪টা পর্যন্ত উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামে প্রবাসী মান্নান মিয়া ও মানিক মিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
এসময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, কম্বল ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে ডাকাত দল প্রথম হানা দেয় হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী মান্নান মিয়ার বাড়িতে। দ্বিতল পাকা বাড়ির নিচ তলায় মালিক মান্নান মিয়ার স্ত্রী রাশেদা আক্তার ও তার নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে সাফায়াতকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে রেখে ঘরে থাকা দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এসময় টাকা দিতে দেরি হওয়া রাশেদা আক্তারকে নির্যাতনের ভয় দেখায়। পরে দ্বিতীয় তলায় উঠে আসমা খাতুনের ষ্টিলের আলমিরা ভেঙে ফেলে। এছাড়া  রাজিয়া সুলতানার ঘরের ছেলের জমানো মাটি ব্যাংক ভেঙে প্রায় ৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
পরে রাত ৪টা নাগাদ হানা দেয় একই গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মানিক মিয়ার বাড়িতে। এসময় ঘরে থাকা মানিক মিয়ার শ্বশুর মনির আহমদ, তার স্ত্রী খালেদা আক্তার ও খালেদার ছোট দুটি ছেলে মেয়ে ছিল। বিশেষ ধরনের শাবল দিয়ে সদর দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মানিক মিয়ার শশুর মনির আহমেদের হাত পা বেঁধে ফেলে ডাকাত সদস্যরা। পরে তার দুই শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি ও স্ত্রী খালেদা আক্তারকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৭ টি কম্বল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ডাকাতরা।
হাফপ্যান্ট ও মুখোশ পড়া ৮জন ডাকাত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে বলে জানান ডাকাতি হওয়া প্রথম বাড়ির গৃহকর্তী প্রবাসী মান্নান মিয়ার স্ত্রী রাশেদা ডাক্তার।
ডাকাতি হওয়া আরেক বাড়ির বাসিন্দা প্রবাসী মানিক মিয়ার শ্বশুর মনির আহমেদ বলেন, স্বামী প্রবাসে থাকায় একা বাড়িতে আমি মেয়েকে দেখভাল করি। বুধবার রাত চারটার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে ৮-১০ জন ডাকাত ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে আমাকে বেঁধে মেয়েকে জিম্মি করে ধর্ষণের ভয় ও দুই নাতি নাতনিকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা, সাতটি কম্বল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে ডাকাতরা। পরে এলাকাবাসী চিৎকার শুরু করায় ডাকাত দল একটি শাবল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আবদুল হালিম বলেন, বুধবার রাতে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামের এক বাড়িতে গ্রিলগেটে ও আরেক বাড়িতে দরজা ভেঙে লুটের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, মধ্যম আজমনগর গ্রামটি ফেনী নদীর পাড়ে হওয়ায় নদীর উত্তর পাশের ছাগলনাইয়া উপজেলার সমিতির বাজার এলাকা থেকে শেষ রাতে ডাকাত দল এখানে এসে হানা দেয় বলে ধারণা করছি। ডাকাতি শেষে আবার নদী পার হয়ে ওপারে চলে যায় তারা। এটি মাথায় রেখেই এখন আমরা অভিযান চালাবো।

Share and Enjoy !

Shares