আজ শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ওষুধ শিল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেশের ওষুধ শিল্প বড় সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) জানিয়েছে, শীর্ষ ৪৫টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে গেছে, যা সামগ্রিকভাবে ৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাপির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ১৮ অক্টোবরের ওই আগুনে দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও সরঞ্জাম ভস্মিভূত হয়েছে, যা পুরো খাতকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বাপির প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৩০৭টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ২৫০টি সক্রিয়ভাবে উৎপাদনে আছে। তাদের মধ্যে শুধু শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানিরই ক্ষতি প্রায় ২০০ কোটি টাকার। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি যুক্ত হলে এ পরিমাণ আরো বাড়বে।
ডা. জাকির জানান, অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার–সংক্রান্ত ওষুধ তৈরির উপকরণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ার পার্টস ও মেশিনারিজও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উপকরণ পুনরায় আমদানি করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় উৎপাদন ও রপ্তানি উভয়ই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে ১৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশও রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে উৎপাদন চেইনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি হয় চীন, ভারত ও ইউরোপ থেকে—এর অধিকাংশই আকাশপথে আসে। কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার কারণে এসব দামি ও তাপমাত্রা-সংবেদনশীল উপকরণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিকল্প এয়ারপোর্টে নামানো পণ্য নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ সেগুলোকেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

আরো জটিলতা দেখা দিয়েছে নারকোটিকস অনুমোদনপ্রাপ্ত কাঁচামালগুলো নিয়ে। ডা. জাকির বলেন, এসব পণ্য পুনরায় আমদানিতে একাধিক স্তরের সরকারি অনুমোদন নিতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, একটি কাঁচামাল হারালে সেই উপকরণের ওপর নির্ভরশীল প্রতিটি ফিনিশড প্রোডাক্টের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সামগ্রিকভাবে এই ক্ষতির প্রভাব প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার সমান হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বাপির পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত, ক্ষতিপূরণ প্রদান ও বিকল্প কার্গো ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Share and Enjoy !

Shares