শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার আটেরপাড়া গ্রামে হিন্দু দুই পরিবারের মধ্যে বসতভিটা বিক্রয় নিয়ে বিরোধ চলছে।দু’পক্ষই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে এক পক্ষ অপর পক্ষকে দায় চাপাচ্ছে। ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের দুটি মামলা হয়েছে।এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সরেজমি ঘুরে জানা যায়, ছয়গাঁও ইউনিয়নের আটেরপাড়া গ্রামের নিতাই বিশ্বাস ও লক্ষী বিশ্বাস তাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিটন মোল্যার কাছে নিজের বসত বাড়িটি বিক্রি করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়।বিষয়টি জানতে পেরে তাদের প্রতিবেশী ইতালী প্রবাসী বিপ্লব মন্ডল ও গোপাল মন্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানকে বাড়িটি কিনে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। চেয়ারম্যান গোপাল মন্ডল ও বিপ্লব মন্ডলের জমি ক্রয়ের প্রস্তাব নিতাই বিশ্বাসের পরিবারকে জানালে তারা বিক্রি করতে রাজি হয়। ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিটন মোল্যার বাড়িতে হিন্দুসম্প্রদায়ের জাদব চন্দ্র রায়, পরিতোষ সরকার,আশুতোষ সরকার,দিনেষ চন্দ্র তপদার, চিন্ময় সরকারসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে ১৮ শতাংশ টাকা জমি ৩৬ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা মুল্য নির্দারন করে নিতাই বিশ্বাসকে ৬ লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে বিপ্লব মন্ডল ও গোপাল মন্ডলের নামে বায়নাপত্র সম্পাদন করা হয়।
পরবর্তীতে গত কোরবানির ঈদের পরে ১৭ জুন সোমবার দলিল করার দিন ধার্য করা হয়। ওই তারিখে গোপাল মন্ডলের স্ত্রী জমুনা মন্ডল টাকা পয়সা নিয়ে সাবরেজিস্টার অফিসে অপেক্ষা করলেও কথা দিয়ে দলিল করে দিতে আসেনি নিতাই বিশ্বাস। এরপর সালিশদের মাধ্যমে জমি দলিল করার কথা বললে জমি বক্রি করবে না বলে সাব জানিয়ে দেন নিতাই বিশ্বাস। এঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের জমুনা মন্ডল নিতাই বিশ্বাসএর বিরুদ্ধে শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি প্রতারনা মামলা করেন। মমলা দায়েরের কয়েকদিন পরে গভীর রাতে নিতাই বিশ্বাসের লাকড়ীর ঘর আগুনে পুড়ে যায়। নিতাই বিশ্বাসের ঘরটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার দায় প্রতিপক্ষ বিপ্লব ও গোপাল মন্ডলের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে নিতাই বিশ্বাস। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার করছে একটি মহল। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিটন মোল্যা বলেন,নিতাই বিশ্বাসের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন হওয়ায় তার বাড়িটি বিক্রি করার প্রস্তাব দেয়।তাদের প্রতিবেশী প্রবাসী বিপ্লব ও গোপাল মন্ডল বাড়িটি দরদাম ঠিক করে আমার বাড়িতে বসে বায়নাপত্র সম্পন্ন করেছে। এখন শুনতেছি নিতাই বিশ্বাস বাড়ি বিক্রি করতে রাজি হচ্ছে না।
বায়নাপত্রের স্বাক্ষী আশুতোষ সরকার বলেন, নিতাই বিশ্বাস তারনবসত বাড়ি বিপ্লবের পরিবারের কাছে বিক্রি করার জন্য বায়নাচুক্তির সময় আমি উপস্থিত ছিলাম।উভয় পক্ষের সম্মতিতে ন্যায্য বাজার মুল্যে নির্ধারন করে বায়না পত্র সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুনতেছি নিতাই বিশ্বাস জমি দলিল করে দিবে না। এনিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকমান মল্লিক ও খোকন মল্লিককে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার শুনতেছি। কিন্তু তারা বায়নাপত্রের দিন তারা উপস্থিত ছিলেন না।
সাবেক মেম্বার লোকমান মল্লিক ও খোকন মল্লিক বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি বিক্রির বায়নাপত্র নিয়ে দন্দ চলছে। ওই বায়নাপত্রের সময় আমরা উপস্থিত ছিলাম না।
কিন্তু একটা মহল আমাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার করছে।
গোপাল মন্ডলের স্ত্রী জমুনা মন্ডল বলেন,আমরা ইতালিতে দোকান বিক্রি করে ও গহনা বিক্রি করে অনেক কষ্ট করে জমি ক্রয়ের ৪০ লাখ টাকা জমিয়েছি। বায়না করে এখন নিতাই বিশ্বাস ও তার মেয়েরা জমি দলিল করে দিচ্ছে না।আমরা ক্ষতিগ্রস্থ। সে আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।
নিতাই বিশ্বাস ইন্ডিয়ায় থাকায় তার পরিবারের দেখবালের দায়িত্বে তার মেয়ে বিউটি মন্ডলের কাছে। এ ঘটনাটির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার বাবা জমি বিক্রির বায়না চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা জমি বিক্রি করবো না। তারা বায়নাচুক্তির টাকা ফেরত দিতে চাই।
এবিষয় ভেদরগঞ্জ থানার এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, নিতাি বিশ্বাসের মেয়ে বিউটি মন্ডল বাদি হয়ে তাদের লাকড়ির ঘর পোড়ার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামরাটি তদন্ত করে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।