মায়ের অভিযোগে মাদকাসক্ত এক যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার লোনসিং গ্রামের এক হতাশাগ্রস্ত বাবা-মা নিজেদের সন্তানের লাগাম টানতে বাধ্য হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। মাদকাসক্ত অবস্থায় ছেলেকে বেঁধে রাখার পর পুলিশ গিয়ে ঘর তল্লাশী করে গাঁজা উদ্ধার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে এঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত যুবকের নাম ফারুক ছৈয়াল (২৭)। তিনি ওই গ্রামের শওকত ছৈয়াল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর ধরে ফারুক নেশাজাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে সিগারেট ও গাঁজা সেবন করলেও পরে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে তার আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তিনি বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করেন, ভাঙচুর করেন এবং মা-বাবা ও বোনের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান।
বাবা শওকত ছৈয়াল বলেন, “ফারুক নেশার টাকার জন্য প্রায়ই আমাকে মারধর করে। আজ সকালেও টাকার জন্য আক্রমণ করেছে। বাধ্য হয়ে এখন তাকে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। এটা বাবা হিসেবে আমার জন্য লজ্জার ও কষ্টের।”
মা শাহানাজ বেগম বলেন, “ছেলেকে বেঁধে রাখা কোনো মায়ের পক্ষে সহজ নয়। কিন্তু ও যেন কারও ক্ষতি না করে, তাই বাধ্য হয়েছি। শেষ পর্যন্ত আজ সকালে নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
অভিযোগ পাওয়ার পর নড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারুকের ঘর থেকে গাঁজা উদ্ধার করে।
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকি দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ফারুক ছৈয়ালকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকি দাস বলেন, “মাদক আমাদের সমাজের বড় একটি অভিশাপ। এই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল—মায়ের অভিযোগের পর পুলিশ তাকে আটক করে। তার ঘর থেকে গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সাজা শেষে সে নতুনভাবে জীবনে ফিরতে পারবে।”