ফটিকছড়িতে বালুর গাড়ি থেকে চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হায়দার রাসেলের বিরুদ্ধে। বিগত কয়েকদিনে যুবদল নেতা রাসেলের চাঁদা দাবীর একাধিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রকম একটি অডিও রেকর্ড স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তগত হয়েছে। এতে যুবদল নেতা রাসেলকে বলতে শোনা যায়, পৌরসভার কোথাও বালি- মাটি ফেলতে হলে তাকে গাড়ি প্রতি ২ শ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যাবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুংকার দেন তিনি।
সরকারীভাবে ইজারাকৃত বালি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাইফুল হায়দার রাসেলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ তারা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গালাগাল ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অভিযোগ রয়েছে গত ২৭ জানুয়ারি রাতে বালুর গাড়ি থেকে দাবীকৃত চাঁদা পরিশোধ না করায় কাঞ্চন নগর ইউনিয়নে লেলাং খালের বালু ইজারাদার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করেন রাসেলের সাঙ্গপাঙ্গরা।
এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ২৮ জানুয়ারি ফটিকছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমদ চৌধুরী তানভীর। জানা যায়, ২৭ জানুয়ারি রাতে যুবদল নেতা রাসেল দলবল নিয়ে সরকারীভাবে ইজারাকৃত বালি পরিবহনের গাড়ি আটকে দিয়ে গাড়িপ্রতি ২শ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চিৎকার ও গালাগাল করতে থাকেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা তানভীরসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও হুমকি দেন রাসেল।
এ বিষয়ে মেসার্স নূর এন্টার প্রাইজের মালিক নুরউদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে বালুমহাল ইজারা নিয়ে বৈধভাবে বালু বিক্রি করছি। তিনি প্রশ্ন রাখেন এখানে চাঁদা দিতে হবে কেন ?
স্থানীয়রা জানায়, সাইফুল হায়দার রাসেল ২০২১ সাল থেকে বিদেশে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে এসে ফটিকছড়ি পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ভাগিয়ে নেন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল হায়দার রাসেল বলেন, ‘নুর এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়িক অংশীদার হচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং মামলার আসামি। মূলত অভিযোগকারীরা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় তখন এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে পারিনি। শীঘ্রই লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো।
ফটিকছড়ি পৌরসভা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব আহসানুল করিম রাজন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে লেখালেখি করছে। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আমাদের দল বিব্রত হচ্ছে। আশা করছি ঊর্ধ্বতনরা এটি দেখবেন।’ ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।