কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় খোলার বিষয়টি সরকার আইনগতভাবে দেখবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের অফিস পুনরায় খোলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সে অনুযায়ী বিষয়টি দেখা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় ১৯ মাস ধরে সারাদেশে দলটির কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ। গত বছরের ১০ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্র্বতী সরকার।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘিরে মিছিল ও কোথাও কোথাও পতাকা উত্তোলনের ঘটনা দেখা গেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে ছয়জন বিএনপি নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ মনোনয়ন পাননি।
এ নিয়ে নির্বাচন পেছানোর আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি নিয়মকানুন রয়েছে। কোথাও মেয়াদ শেষ হয়েছে, কোথাও চলছে, সব বিবেচনায় নিয়ে সঠিক সময়ে নির্বাচন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এদিনই প্রথম বিএনপি কার্যালয়ে যান মির্জা ফখরুল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছে তিনি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের শুরুতে তিনি দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, নয়া পল্টনের এই কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বহু কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এখানেই বহু সমাবেশ হয়েছে, যা জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের আন্দোলন ও সরকার পরিচালনায় তাঁর অবদান স্মরণীয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এটি সংসদের সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রার্থী মনোনয়নে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ও দলের জন্য ত্যাগ, এসবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই পরিবারের দুই সদস্যকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না- এ প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।