শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সালিস বসিয়ে অভিযুক্ত এক শ্রমিকদল নেতাকে জুতাপেটা করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সালিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল দুপুরে কোদালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সভাপতি আমির হোসেন গাছা এক নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই নারী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৭ এপ্রিল বিকেলে কোদালপুর ইউনিয়নের মধ্য দেওয়ানপাড়া এলাকার রানা দেওয়ানের বাড়ির উঠানে সালিস বৈঠক বসে। এতে কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ, স্থানীয় মুরব্বি নাসির দেওয়ান, মহসিন দেওয়ান, সফিক দেওয়ান ও আব্দুল মুকিব দেওয়ানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত আমির হোসেনকে দাঁড় করিয়ে এক নারী দিয়ে ১৭ বার জুতাপেটা করা হয়। এ সময় শতাধিক লোক উপস্থিত থেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, ‘আমার স্ত্রীর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় সালিস হয়েছে। সেখানে আমির হোসেনকে জুতাপেটা করা হয়। পরে আমরা এ বিষয়ে কোনো মামলা করিনি।’ অভিযুক্ত আমির হোসেন গাছার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ দেওয়ান বলেন, ‘ওই নারীকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পক্ষ আমাদের কাছে আসে। পরে সালিসের মাধ্যমে জুতাপেটা করে মীমাংসা করা হয়।’
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণের চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ স্থানীয়ভাবে এভাবে মীমাংসা করার সুযোগ নেই। শরীয়তপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনিরুজ্জামান দীপু বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের চেষ্টার জন্য নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে। সালিসে কাউকে জুতাপেটা করা আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। এটি নিজেও একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসা করা গেলেও শারীরিক শাস্তি দেওয়া আইনসম্মত নয়।’
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা এভাবে আপস-মীমাংসা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা আইন পরিপন্থী।’