কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রসাদের চর গ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি ও শত বছরের পুরনো বসতভিটা। প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০টি ড্রেজার দিয়ে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনে ভাঙনের মুখে রয়েছে পুরো গ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কোস্টগার্ড ফাঁড়ি স্থাপন ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঢাকা-সিলেট নৌপথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, আমরা ভাত-কাপড় চাই না, চাই আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা। আমাদের মৃত্যুর পর যেন এই গ্রামের মাটিতে কবর হয়, এই অধিকারটুকুই আজ সংকটের মুখে। প্রতিদিন রাতেই চলে বালু কাটার মহোৎসব, আর সকালে দেখা যায় কৃষকের জমি নেই। এভাবে চললে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রামপ্রসাদের চর মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চললেও ২০২১ সালে সরকারি ইজারা বন্ধ হলে নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ হয়। কিন্তু চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে ফের শুরু হয় অবৈধ বালু উত্তোলন। এবার এর নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এইচ. এম. মহসিন বলেন, এই বালু সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক, যুবদল নেতা আলী হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত প্রধান। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নৌ পুলিশের ইনচার্জ আজমগীর হোসেন সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় আছেন বলেই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রবিউল্লাহ রবি বলেন, “ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নাজমুল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই মানববন্ধনের নাটক করছে। আমরা বালু মহলের সঙ্গে জড়িত নই।”
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন কথা সাহিত্যিক ও আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, কুমিল্লা জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, মেঘনা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার শিমুলসহ স্থানীয় অনেকে।
মানববন্ধন থেকে স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সরকার যদি অবিলম্বে কোস্টগার্ড ফাঁড়ি স্থাপন ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা বাধ্য হবেন ঢাকা-সিলেট নৌপথ অবরোধ করতে। যদি এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী কারও ওপর হামলা-মামলা হয়, তবে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও জানান তারা।