আজ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে শরীয়তপুরে মানববন্ধন

পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি করার দাবিতে শরীয়তপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে জেলার শতাধিক কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় শরীয়তপুর জিলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুক আলী দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মুন্সি, সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক মোল্লা ও প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন খান বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত একটি পরিপত্র জারি করে বৈষম্যমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের উপর যে মানষিক চাপ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তার সকল দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।

আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের হাতেই অর্পিত হবে দেশের আগামী নেতৃত্ব। শিক্ষায় দৃশ্যমান সাফল্য বাংলাদেশের একটি বিশাল অর্জন। এ অর্জন স্বীকৃত সারাবিশ্বে। আমরা বাংলাদেশের কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৬ লক্ষ শিক্ষক গর্বিত এ জন্য যে, এ অর্জনের অংশীদার আমরাও।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী অবদান রেখে আসছে এবং বেকারসমস্যা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশে প্রায় ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৭০ লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

বৃত্তি শুধুমাত্র একটি আর্থিক অনুদান নয়-এটি একটি শিশুর আত্মত্মবিশ্বাস, সামাজিক স্বীকৃতি এবং শিক্ষাগত অগ্রগতির অনুপ্রেরণা। যখন একটি শিশু দেখবে তার বন্ধুরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে কিন্তু সে নিতে পারছে না শুধুমাত্র তার বিদ্যালয়ের স্বীকৃতির ধরণ ভিন্ন বলে, তখন তা তার মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি শিশুদের মধ্যেই একটি বৈষম্যমূলক মনোভাব গড়ে তোলে, যা জাতীয় শিক্ষানীতি এর সাম্যের নীতির পরিপন্থী। প্রাথমিক শিক্ষা মানে কেবল স্বাক্ষরতা নয়, এর মানে হচ্ছে জাতি গঠনে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত গড়ে দেওয়া। সেই ভিত গড়ার প্রথম ধাপেই যদি বৈষম্য শুরু হয়, তাহলে আমরা কীভাবে সমতার সমাজ গড়বো?

শিক্ষা শিশুদের মৌলিক অধিকার। কোন শিশুকে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। জুলাই বিপ্লবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান বৈষম্য বিরোধী সরকার। বিধায় বর্তমান সরকারের সময়ে কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আবার সেই বৈষম্যের শিকার হোক এটা অপ্রত্যাশিত।

তাই গত ১৭ জুলাই জারি করা পরিপত্রটি প্রত্যাহার করে ২০২৫ এ অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ প্রদান সহ প্রাথমিক শিক্ষার জন্য গৃহীত অন্যান্য যেকোনো কার্যক্রমে প্রাথমিক শিক্ষায় অংশীজন হিসেবে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সমঅধিকার যেন অক্ষুন্ন থাকে তার জোর দাবী জানাচ্ছি।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

Share and Enjoy !

Shares