প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা দেশের ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জারিকৃত ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য পরিপত্র বাতিল করে কিন্ডারগার্টেন ও সমমনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে বৈষম্যহীন ও গ্রহণযোগ্য নতুন পরিপত্র জারি করার দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রেসক্লাবের সামনে টাঙ্গাইল কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সহস্রাধিক শিক্ষক অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সহ-সাধারণ সম্পাদক লতিফুর রহমান লাবু, শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক আরীফ খান স্বাধীনসহ অনেকে। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন আবির আহমেদ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়” সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে এইমর্মে অত্যন্ত সু-চাতুরতার সাথে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা – ২০২৫’ নামে গত ১৭ জুলাই ২০২৫ একটি পরিপত্র জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পঞ্চম শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আমরা এ পরিপত্রকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। একটা দেশে দুইরকম ধারা কিছুতেই চলতে পারেনা, এটা কোমলমতি শিশু-কিশোরদের সাথে একটি বিরাট বৈষম্য ও প্রতারণার সামিল।
এরূপ বৈষম্য আমরা কোনো মতেই মেনে নিতে পারি না। এ বৈষম্যের জন্য ছাত্র, জনতা, শিশু-কিশোর প্রাণ দেয় নাই। কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ দেশের প্রায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠির সন্তানরাই পড়ালেখা করে। এ পরিপত্র জারির ফলে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সকলে হতবাক ও বিস্মিত। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ কোন মতেই দেশের সচেতন জনগণ মেনে নিতে পারেনা।
তাই মানববন্ধনে অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য পরিপত্র বাতিল করার দাবি জানান টাঙ্গাইল কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের নের্তৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় পনেরশত কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ৫ লাখ শিক্ষার্থী ও ২৫ হাজার শিক্ষক রয়েছে।