বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত কিশোরগঞ্জে, শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই কিশোরগঞ্জ রাষ্ট্রপতি দিয়েছে, কিন্তু মানুষের ন্যায্য অধিকার দেয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সব খাতেই কিশোরগঞ্জ আজ বঞ্চিত।
পুরানথানা স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এই বিশাল জনসমুদ্রে তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্রপতি এই জেলার গর্ব ছিল, তিনিই শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে তুলে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক, মানবাধিকার হরণকারী। কিশোরগঞ্জের গণসচেতন মানুষই প্রথম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের বীজ বপন করেছিল। আজ সেই ঐতিহাসিক ভূমি থেকেই আমরা আবারো ফ্যাসিবাদবিরোধী নতুন আন্দোলনের সূচনা করছি।”
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম পুরনো ধাঁচের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে নতুন রাষ্ট্র গড়বো, নতুন সমাজ বিনির্মাণ করবো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো সেই পুরনো শাসনতন্ত্র, পুরনো সন্ত্রাস, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য থেকে জাতি মুক্ত হয়নি। তাই এনসিপি আবারো রাজপথে নেমেছে—মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, তরুণদের নেতৃত্বে একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য।”
তিনি অভিযোগ করেন, “এই জেলায় স্কুল আছে, কিন্তু শিক্ষক নেই; হাসপাতাল আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই; যুবসমাজ আছে, কিন্তু কর্মসংস্থান নেই। বাজেট আসে, কিন্তু রাস্তা তৈরি হয় না। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে নাগরিক সুবিধা হবে নিশ্চিত, মর্যাদা হবে সবার প্রাপ্য, কিশোরগঞ্জের হাওরবাসী মানুষ প্রতিনিয়ত জীবন ও জীবিকার সংগ্রামে লিপ্ত। কৃষকরা পান না ফসলের ন্যায্য মূল্য, সার-সেচের সংকটে কৃষি ব্যাহত হয়, শিশুদের নেই মানসম্মত শিক্ষা আর চিকিৎসার সুযোগ। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে এনসিপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে। কিশোরগঞ্জকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে।”
নাহিদ ইসলাম আহ্বান জানান,জাতীয় নাগরিক পার্টি হলো তরুণদের প্ল্যাটফর্ম’ “আপনারা যারা পরিবর্তন চান, যারা দেশের জন্য নিবেদিত তরুণ নেতৃত্বে আস্থাশীল, তারা এনসিপিতে যোগ দিন। এই দলই ৫৪ বছরের পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত, মাফিয়াকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে গড়বে নতুন বাংলাদেশ। তরুণরাই হচ্ছে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি তাদের শক্তি, প্রজ্ঞা ও সাহস দিয়েই হবে মুক্তি, হবে নবজাগরণ।”
পদযাত্রা শুরুর আগে সন্ধ্যা ৮টায় কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়াম থেকে মিছিল বের হয়ে পুরানথানার স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। সমাবেশস্থলে ছিলো উপচেপড়া ভিড়, তরুণদের চোখেমুখে ছিল দৃঢ় প্রত্যয় আর পরিবর্তনের প্রত্যাশা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় আগেভাগেই।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন, যুগ্ম সদস্য সচিব আহনাফ সাঈদ খান, দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক আকরাম হোসেন রাজ, উত্তরাঞ্চল সংগঠক খায়রুল কবির প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।