আজ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর সম্ভাবনা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি ও ব্যয় বৃদ্ধি সামাল দিতে সরকার সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা বা অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয় আলোচনা করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সব সরকারি সংস্থাকে নিজ নিজ প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাবনা আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় অফিসগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত পূর্ব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা, প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অফিসে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বৃদ্ধি। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়। সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশ এখন দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বাইরে গিয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

Share and Enjoy !

Shares