আজ সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশের সমর্থনে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি পাকিস্তানের

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক মাস আগে বিশ্ব ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আপত্তির পর এবার তাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের এই অনড় অবস্থানের সুরাহা না হলে পাকিস্তানও আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে।

এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানো বাংলাদেশ সম্প্রতি ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ঢাকা তাদের এই অবস্থানে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সমর্থন প্রার্থনা করলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
পত্রিকাটিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান না হলে তারা নিজেরাও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।’ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া এই আসর নিয়ে আইসিসি যখন সংকট মেটানোর চেষ্টা করছে, তখন পাকিস্তানের এই অবস্থান নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও চাপে ফেলে দেবে বলে মন্তব্য করেছে এনডিটিভি।

গত আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। সম্প্রতি আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।

এরপরই বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানায় যে, তারা বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ ভারতে খেলবে না। যদিও আইসিসি পরিচালিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির প্রমাণ মেলেনি, তবুও বাংলাদেশ নিজের অবস্থানে অনড়। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। গত এশিয়া কাপের সময় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম একে অপরকে সমর্থন দিয়ে কাজ করেছেন।

এখন ভারতের মাটিতে খেলা নিয়ে বাংলাদেশের এই সংকট যদি না মেটে, তবে এশিয়ার দুই পূর্ণ শক্তির দেশের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপের জৌলুস ও ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বর্তমানে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সূচি এবং টুর্নামেন্টের ভাগ্য এখন ঝুলে আছে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার ওপর।

Share and Enjoy !

Shares