আজ মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২০ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শেখ হাসিনার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অন্য আদালতে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ জজ আদালত থেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে।

মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯–এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির স্বার্থে মামলাটি বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী জানান, শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের মামলা বদলি হয়ে আমাদের আদালতে এসেছে। আগের আদালত সোমবার চার্জ শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। আমাদের আদালতে মামলাটির আজ প্রথম দিন। আমরা নথি পেয়েছি, তবে আজ কোনো শুনানি হয়নি।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৩০ আসামির মধ্যে ২০ জনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেন। এ পর্যায়েই মামলাটি বদলির আদেশ আসে।

২৮৬ আসামির মধ্যে ২৫৫ জন বর্তমানে পলাতক। সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন কারাগারে রয়েছেন এবং একজন আসামি জামিনে আছেন। কারাগারে থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রামের ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ এর প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা সেখানেই অবস্থান করছেন। তাঁকেসহ ২৫৯ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

গত বছরের ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।

বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ এর একটি জুম বৈঠকে কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনা ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও মামলায় বলা হয়েছে।

Share and Enjoy !

Shares